
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ি ইউনিয়নে এক পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে পরিবারের উপর সহিংসতা চালিয়েছেন। এতে পরিবারের চারজন নারীর মারধর করা হয়েছে এবং গাছপালা কেটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ধোপাছড়ির চামাছড়ি চৌকিদার বাড়ি এলাকায় ৩০ শতক জমিতে বসবাস করে আসছিল। সম্প্রতি জমির নতুন মালিক মোহাম্মদ আলী ২ লাখ ১০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে জমিটি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি পরিবারের ছোট মেয়ের ওপর অনৈতিক নজর দেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরিবার এটি প্রত্যাখ্যান করলে, মোহাম্মদ আলী জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে মেয়ের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
স্থানীয়ভাবে এই বিষয় নিয়ে বৈঠক হলেও তিনি তা অমান্য করেন। এরপর সম্প্রতি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাড়িতে হামলা চালানো হয়, গাছপালা কেটে দেওয়া হয় এবং পরিবারের চারজন নারীকে মারধর করে ঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এই ঘটনায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার এবং প্রাণনাশের নিরাপত্তা দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের একজন নারী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন চন্দনাইশ আর্মি ক্যাম্প এবং ধোপাছড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। তাঁরা জানিয়েছেন, পরিবারের নিরাপত্তা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে আরও বিপদ ঘটতে পারে।
চন্দনাইশ থানার আওতাধীন দোহাজারি পুলিশ ফাড়ির অফিসার এসআই মো. সোহেল জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনার ফলে এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারটির ওপর এমন সহিংসতা অতীতেও ঘটেনি। বিশেষ করে নারী সদস্যদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইনজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কাউকে অনৈতিক প্রস্তাবে বাধ্য করা বা পরিবারের ওপর সহিংসতা চালানো সম্পূর্ণ অবৈধ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তৎপরতা ছাড়া এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
উপসংহারে, চট্টগ্রামের ধোপাছড়ি এলাকায় এই ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারটি ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে প্রশাসনের সহায়তা আশা করছে। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হওয়া প্রয়োজন।