
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা সহজ করতে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৭ মার্চ) অগ্রিম টিকিট বিক্রির পঞ্চম দিনে যাত্রীরা আগামী ১৭ মার্চের ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এবারও শতভাগ অনলাইন পদ্ধতিতে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর জন্য ১৭ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর একই দিনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে।
ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরই ট্রেনের টিকিট সংগ্রহে যাত্রীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই অনলাইনে প্রবেশ করে টিকিট পাওয়ার চেষ্টা করেন। এ কারণে সার্ভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলওয়ে এবার অঞ্চলভেদে আলাদা সময়ে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করেছে। এতে করে একসঙ্গে অতিরিক্ত ব্যবহারকারী প্রবেশের কারণে সার্ভার জটিলতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরের আগে যাত্রীদের যাত্রা পরিকল্পনা সহজ করতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এর আগে ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ মার্চের ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৩, ৪, ৫ ও ৬ মার্চ।
একই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনগুলোতেও অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলবে। রেলওয়ে জানিয়েছে, ৮ মার্চ বিক্রি করা হবে ১৮ মার্চের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট এবং ৯ মার্চ পাওয়া যাবে ১৯ মার্চের ট্রেনের টিকিট। ফলে যারা এখনও টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তারা নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী পরবর্তী দিনের টিকিট সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।
শুধু ঈদের আগে যাত্রার টিকিটই নয়, ঈদের পর ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রির পরিকল্পনাও আগেভাগেই নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে।
ওই দিন যাত্রীরা ২৩ মার্চের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ এবং ১৯ মার্চ বিক্রি করা হবে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ মার্চের ট্রেনের টিকিট।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে এবং টিকিট বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনলাইন পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শতভাগ অনলাইনে টিকিট বিক্রি করা হলে টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং অনিয়মের সুযোগ কমে।
এছাড়া যাত্রীরা নিজেদের অবস্থান থেকে সহজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। ফলে স্টেশন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তিও কমে।
ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরই রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের জন্য যাত্রা করেন। এই সময়ে ট্রেন যাত্রা অনেকের কাছেই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবহন হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাই ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিটের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। সেই চাহিদা বিবেচনায় রেখে আগাম পরিকল্পনার মাধ্যমে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনলাইনে প্রবেশ করে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।