
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, প্রায় ১১ মাসের অনুসন্ধান শেষে দুদক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ পায়নি এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তিপত্র দিয়েছে। তিনি ওই পোস্টে অনুসন্ধান-সংক্রান্ত নথিপত্রও সংযুক্ত করেছেন।
এর আগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর মোয়াজ্জেম হোসেনকে সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্য, নিয়োগ-বদলি সিন্ডিকেট ও টেন্ডার সংক্রান্ত নানা অভিযোগ সামনে আসে।
মোয়াজ্জেম হোসেন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিদিন নানা ধরনের তদবির নিয়ে অনেকেই তার কাছে আসতেন। তিনি দাবি করেন, এসব অনুরোধে সাড়া না দেওয়ায় অনেকের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়ানো শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে প্রথমে তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ ছড়ানো হয়, যা পরে বিভিন্ন জায়গায় দ্রুত প্রচারিত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযোগের কারণে তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানের সময় তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি দাবি করেন, তদন্ত চলাকালে বিভিন্নভাবে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলেও অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নিজের ব্যক্তিগত জীবনের একটি ঘটনার কথাও তিনি পোস্টে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাসার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর শারীরিক সমস্যায় পড়েন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তবে সেই সময়ও তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযোগের কারণে তিনি ও তার পরিবার মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। অবশেষে দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চান বলে জানান।