
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা এলাকায় গলা কেটে গৃহবধূ শাহিদা খাতুনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩। রংপুরে পরিচালিত একটি অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে র্যাব-১৩ রংপুরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া আসামির নাম মো. আবুল কালাম (৩৫)। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর হরিকেশ এলাকার বাসিন্দা। তাকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার স্টেশন রোড এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শাহিদা খাতুনের ছোট বোনকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন আবুল কালাম ও তার সহযোগীরা। বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে শাহিদা খাতুন ও তার ছোট ভাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেন।
তবে নির্ধারিত দিনে অভিযুক্তরা সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। এ ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
এর কিছুদিন পর গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহিদা খাতুন নিজ বাড়ির উঠানে টিউবওয়েলের পাশে রান্নার জন্য চাল ধুচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা আবুল কালাম ও তার সহযোগীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর ভিকটিমের বাবা মো. সাইফুর রহমান বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় ৫ নম্বর মামলা হিসেবে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাব। দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল রংপুরের বদরগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় স্টেশন রোড এলাকায় মো. আব্দুল মতিন আনছারীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান পলাতক আসামি আবুল কালামকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।