
মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক তিন বাংলাদেশি নাগরিক অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পাশের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ঘুমধুম ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এই তিন বাংলাদেশিকে আটক করে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। পরে তাদের মুক্তির জন্য বিজিবি উদ্যোগ নেয় এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় শুরু করে।
মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. বাপ্পি (২৮)। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তুমব্রু সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি।
এ ছাড়া আরও দুজনকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অপহরণ করা হয়। তারা হলেন কক্সবাজারের উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীন বালুখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি বালুখালী নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া ওসমান গনি রাব্বি (১৮) এবং টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার হেরেন্দ্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জনি মিয়া (২২)।
বিজিবির তথ্যমতে, সীমান্তবর্তী নদী ও এলাকা থেকে তাদের আটক করে মিয়ানমারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় তাদের পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করলে বিজিবির কাছে বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আরাকান আর্মির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অবশেষে তাদের মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে তিন বাংলাদেশিকে সীমান্তে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি সদস্যরা তাদের গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
পরে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরা বা বিভিন্ন কাজে যাওয়া অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রায়ই অস্থিতিশীল থাকে।
এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকার জন্য প্রায়ই পরামর্শ দিয়ে থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজিবির উদ্যোগ এবং দীর্ঘ সমন্বয় প্রচেষ্টার ফলে তিন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগণকে আরও সতর্ক থাকার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।