ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ওভাল অফিসে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও এই প্রার্থনায় অংশ নেন আমেরিকার প্রভাবশালী ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসের ফেইথ অফিসের উদ্যোগে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর ওভাল অফিসেই আয়োজন করা হয়।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওভাল অফিসের রেজোলিউট ডেস্কের পেছনে বসে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাকে ঘিরে প্রায় ২০ জন ধর্মীয় নেতা দাঁড়িয়ে প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন।
প্রার্থনায় অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন পলা হোয়াইট কেইন, ডালাসের ফার্স্ট ব্যাপটিস্ট চার্চের পাস্টর রবার্ট জেফ্রেস, ফেইথ অ্যান্ড ফ্রিডম কোয়ালিশনের রাল্ফ রিড এবং ফ্যামিলি রিসার্চ কাউন্সিলের গ্যারি বাউয়ারসহ আরও কয়েকজন ইভানজেলিক্যাল নেতা।
ভিডিওতে দেখা যায়, নেতারা ট্রাম্পের জন্য প্রার্থনা করছেন এবং একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য কামনা করছেন।
এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন পলা হোয়াইট কেইন। তার নেতৃত্বে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই এই ধরনের প্রার্থনা অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং এটি এক ধরনের বার্ষিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকে অনুষ্ঠানটির ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানকে অনেকেই রাজনৈতিক সমর্থনের একটি প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান সম্প্রদায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে। এই সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
এ কারণে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন প্রার্থনা অনুষ্ঠান ট্রাম্পের প্রতি ওই সম্প্রদায়ের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। যদিও প্রার্থনা অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সরকারি সূত্র থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে ঘিরে অনুষ্ঠিত এই প্রার্থনা অনুষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।