
ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরের দিকে ছাত্রদলের কয়েক শ নেতাকর্মী সাংবাদিক সমিতির কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সরাসরি সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল, সদস্যসচিব সামসুল আরেফিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদ।
হামলায় আহত সাংবাদিকদের ন্যাশনাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যদিও আহতদের মধ্যে কেউ গম্ভীর অবস্থায় নেই, তবুও ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংবাদিক সম্প্রদায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
জবি সাংবাদিক সমিতি ও বিভিন্ন মিডিয়া হাউস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সাংবাদিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার বিষয়। হামলার ঘটনায় আহত সাংবাদিকরা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে আশ্বাস পেলেও, সমিতির কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।