
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম জানিয়েছেন, পাটপণ্য রপ্তানিতে কর ছাড় ও নগদ সহায়তা দিয়ে কাঁচাপাটের ওপর নির্ভরতা কমানো হবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকা পাটকল পুনরায় চালু করার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ‘সোনালি আঁশের সোনালি দিন’ আবার ফিরিয়ে আনা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে জাতীয় পাট দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাষ্ট্রপতি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উক্ত দিবস ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪১৮.৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট পাট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৩.৮০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে কাঁচাপাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৪৮.৪৮ মিলিয়ন ডলার এবং পাটপণ্য রপ্তানিতে ৬৭১.৬০ মিলিয়ন ডলার।
পাটশিল্পের উন্নয়নে পাট অধিদপ্তরের ১৫ ধরনের লাইসেন্স অনলাইনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাট আইন সংশোধন, বিশেষ প্রণোদনা, ‘জুট পোর্টাল’ চালু, শিল্প-একাডেমি সমন্বয়, পৃথক টাস্কফোর্স গঠন এবং পাটশিল্পভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘গোল্ডেন ফাইবার অব বাংলাদেশ’ নামে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের কাজও চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ বাস্তবায়নের ফলে দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫০ কোটি পাটের বস্তার চাহিদা তৈরি হয়, যার বাজারমূল্য ৮ থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া পাট আইন, ২০১৭, জাতীয় পাটনীতি, ২০১৮ এবং চারকোল নীতিমালা, ২০২২ প্রণয়ন করে খাতটিকে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে ৬ থেকে ১৪ মার্চ রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।