
ইরানের তৈরি ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আটকানো প্রায় অসম্ভব বলে দাবি করেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রখ্যাত সামরিক সাময়িকী মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ফাত্তাহ-২ অত্যন্ত কার্যকর এবং এর হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে চলাচল করতে পারে। প্রয়োজনে এটি মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন করে কৌশলগত ম্যানুভার চালাতে সক্ষম।
সাম্প্রতিক অভিযানে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ফাত্তাহ-২ মডেলের অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফল আঘাত হেনেছে। সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রচলিত রাডার ও ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউভাল বাসেস্কি জানিয়েছেন, বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মূলত ইন্টারসেপ্টরের গতির ভিত্তিতে ডিজাইন করা হয়েছে। কিন্তু ফাত্তাহ-২-এর গতিবেগ প্রায় শব্দের গতির দশগুণ (ম্যাক-১০), যা মোকাবিলা করতে হলে ইন্টারসেপ্টরের ৩০ গুণ গতিতে ছুটতে হবে। বায়ুমণ্ডলের তীব্র ঘর্ষণের কারণে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন বর্তমানে প্রায় অসম্ভব।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোও পুরোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল। হাইপারসনিক প্রযুক্তির সংযোজন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
যদিও ইসরায়েল একটি বিশেষ ‘জোন ডিফেন্স’ মডেল তৈরির পরিকল্পনা করছে, তবে এটি বাস্তবায়নে কয়েক দশক সময় এবং কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রয়োজন হবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ফাত্তাহ-২ এখনও এমন সক্ষমতা ধরে রেখেছে যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রাচীর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইপারসনিক প্রযুক্তি বিশ্বের সামরিক ভারসাম্যকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করছে, এবং ইরানের ফাত্তাহ-২ এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।