
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মাল্টা-পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘সেফেন প্রেস্টিজ’ বড় ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। বুধবার দুপুর নাগাদ ওমানের উপকূল থেকে মাত্র দুই নটিক্যাল মাইল উত্তরে অবস্থানকালে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটির ওপর আঘাত হানে। আঘাতের ফলে জাহাজের ওয়াটারলাইনের ঠিক ওপরে ইঞ্জিন রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ডের তথ্যমতে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জাহাজের ক্রু সদস্যরা জরুরি ভিত্তিতে জাহাজটি পরিত্যাগ করেন।
ব্রিটিশ নৌ সংস্থা ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে, হামলার পর সকল ক্রু নিরাপদে বের হতে সক্ষম হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সমুদ্রে তেলের নিঃসরণ বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও আপাতত নেই।
হরমুজ প্রণালী হলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এই প্রণালিতে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকা পর্যন্ত জ্বালানি পরিবহনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।
সমুদ্রবন্দর ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, “এ ধরনের হামলা শুধুমাত্র জাহাজের ক্ষতি করে না, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপরও প্রভাব ফেলে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা শিথিল হলে তেলের দাম ও সরবরাহে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।”
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হামলার স্থানকে ঘিরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য জাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জাহাজ মালিক ও সংশ্লিষ্ট ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছে নৌ নিরাপত্তা সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। আন্তর্জাতিক নৌপথে হামলার ঘটনায় নৌপথের নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ মালিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলো সতর্কতা বাড়াচ্ছে। নিরাপত্তা ও পরিবহন সংক্রান্ত পদক্ষেপ আরও জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
‘সেফেন প্রেস্টিজ’ হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌ পরিবহনে নিরাপত্তা ও সচেতনতার গুরুত্বকে পুনরায় সামনে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা নৌবাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।