
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক গৃহবধূ লিলি খাতুন (২২) ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নিহত লিলি খাতুন উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, তার স্বামী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে রাজু মিয়ারের ঘর থেকে লিলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিলি খাতুনের এবং রাজু মিয়ারের বিয়ে প্রায় ৮ বছর আগে হয়। তাদের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য জীবনে অর্থনৈতিক অনটন এবং স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণে দম্পতির মধ্যে মনমালিন্য শুরু হয়। প্রায় এক বছর আগে রাজু অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে তাদের মধ্যে বিরোধ আরও বৃদ্ধি পায়।
মৃত্যুর দিন বিকেল ৪টার দিকে প্রতিবেশীরা রাজু মিয়ারের ঘরে লিলিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তারা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লিলির মরদেহ উদ্ধার করে।
ধুনট থানার এসআই মুনজুর মোর্শেদ মণ্ডল জানান, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
এ ঘটনায় রাজু মিয়া পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ এবং জনসাধারণের কাছে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক এবং দাম্পত্য কলহই ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার, ইউডি মামলা রেকর্ড ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের ঘটনায় দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক সমস্যার সমাধান না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। পুলিশের তৎপরতা ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।