
ইরাকের মার্কিন সমর্থিত ইরানি কুর্দি বাহিনী ইরানে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করছে বলে সতর্ক করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা ও কুর্দি নেতারা। তারা বলছেন, এমন ঘটনা ঘটলে ইতিমধ্যেই চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতি নতুন দিক নিতে পারে। এই প্রচেষ্টার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানি কুর্দি বাহিনীকে ছোট অস্ত্র সরবরাহ করেছিল, যা তাদের সীমিত ধরনের সশস্ত্র কার্যক্রম চালাতে সক্ষম করে।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি বোমা হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করা হয়েছে। সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে কুর্দিদের জন্য সীমান্ত পার হওয়া সহজ হতে পারে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কুর্দিদের অনুপ্রবেশ বা বিদ্রোহ উসকে দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানি সেনাবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ পেতে পারে।
হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে মন্তব্য করেছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বুধবার বলেন, ‘কুর্দিদের মাধ্যমে ইরানে বিদ্রোহ শুরু করার কোনো পরিকল্পনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মতি দেননি।’ তবে কুর্দি নেতৃত্ব স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এবং হোয়াইট হাউস এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক ও সিরিয়ায় কুর্দি মিলিশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা রয়েছে। ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের পর ইরাকের কুর্দিদের বিদ্রোহকে যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু পরে ইরাকি সেনাবাহিনী কুর্দি বাহিনীকে নির্মমভাবে দমন করলে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কুর্দি বাহিনীই ইরানি সরকারকে উৎখাত করতে সক্ষম নয়। কুর্দিদের হাতে ত্যাংক বা ভারী অস্ত্র নেই, কেবল ছোট অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া ইরানির সংখ্যাগরিষ্ঠ পারস্যভাষী জনগোষ্ঠী কোনো অনুপ্রবেশকে স্বাগত জানাবে না। প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার দেশে কুর্দি সংখ্যা ৬০–৯০ লাখের মধ্যে।
সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্যবস্তু মূলত ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশ। স্যাটেলাইট ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এতে পুলিশ সদর দপ্তর, কারাগার, যোগাযোগ টাওয়ার এবং প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেসামরিক অঞ্চলও এতে প্রভাবিত হয়েছে।
ইরাকি ও ইরানি কুর্দি কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের সীমান্ত পার হওয়া ঠেকাতে ইরান ইরাকের ওপর চাপ দিচ্ছে। এই সপ্তাহে ট্রাম্প ইরাকি কুর্দি নেতা মাসুদ বারজানি এবং বাফেল তালাবানি’র সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন, যাতে ইরাকের ইরানি কুর্দি যোদ্ধাদের ইরানে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হয়। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ নেই।
সিআইএ কুর্দিদের সহায়তা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। তবে সংক্রান্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সিআইএ–এর সহায়তার মূল লক্ষ্য কখনও তেহরানের সরকার উৎখাত করা নয়, বরং সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি করা। সাবেক কর্মকর্তারা বলেছেন, অনুপ্রবেশের কার্যকারিতা সীমিত এবং কুর্দি বাহিনীকে বড় ধরনের আক্রমণে সক্ষম করে না।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ইরাকের মার্কিন সমর্থিত ইরানি কুর্দি বাহিনী অনুপ্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে তা যুদ্ধের পরিধি বদলাতে পারে কিনা তা স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস এই পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করলেও সীমান্তে উত্তেজনা ও সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান–ইরাক সীমান্তে কুর্দিদের অবস্থান ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ যুদ্ধকে নতুন মোড় দিতে পারে।