
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অভিষেক ম্যাচে চীনের বিপক্ষে মাঠে নেমে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করেছে বাংলাদেশ। যদিও ফলাফলে জয় আসেনি, তবুও হার মানা মানসিকতা দেখিয়ে খেলোয়াড়রা সমর্থকদের হৃদয় জয় করেছেন। এই পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে বিতর্কও শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার ম্যাচ পর্যালোচনায় বলেছেন, চীনের দল খুব শক্তিশালী নয়। তার ভাষায়, “চীন দলে অনেক বেশি বয়স্ক খেলোয়াড়। তারা মাঝে-মধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে। তারা অফফর্মে, ফর্ম নেই। আমি আগে চীনের খেলা দেখেছি, এই ম্যাচ দেখে আমি স্পিসলেস হয়ে গিয়েছি। বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার ম্যাচ।”
মাহফুজা আক্তারের এই মন্তব্যের পর কোচ পিটার বাটলার সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ আজেবাজে কথা। এটি আমার কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং আমি মনে করি, বাফুফের একজন সদস্যের পক্ষে এভাবে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা এবং চীন দলের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত ভুল ছিল।”
বাটলার আরও বলেন, “কিছুটা সম্মান প্রদর্শন করা উচিত, শুধু আমাদের খেলোয়াড়দের প্রতি নয়, আমাদের দলের প্রতিও। চীনের দল একটি শক্তিশালী দল। তাদের খেলোয়াড়রা নাসরিনের (নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি) হয়ে খেলে না; তারা পিএসজির হয়ে খেলে। তাদের খেলোয়াড়রা ফরাশগঞ্জের মতো দলের হয়ে খেলেনা; তারা ফ্রান্সে এবং চাইনিজ সুপার লিগে খেলে। তাই আমি মনে করি, মাহফুজা আক্তারের মন্তব্য বেশ অসম্মানজনক এবং কিছুটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিল।”
বাটলারের এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে তিনি চীনের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, সমালোচনা করার আগে প্রতিপক্ষের যোগ্যতা ও অবদানকে সম্মান করা উচিত।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আগামীকাল গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মাঠে নামবে। বাটলার আশা প্রকাশ করেছেন, খেলোয়াড়রা ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখবে এবং আগের ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে।
এশিয়ান কাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরে সমালোচনা ও প্রশংসা উভয়ই স্বাভাবিক। তবে কোচ বাটলারের মতে, নেতিবাচক মন্তব্যে দলের মনোবল কমতে পারে এবং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তিনি দলের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থক এবং কর্মকর্তাদের দিক থেকেও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সামনের ম্যাচগুলোতে দলটি কীভাবে পারফরম্যান্স দেখায়, তা সমর্থক এবং বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোচ বাটলার নিশ্চিত করেছেন যে, দলের প্রস্তুতি এবং মনোবল ধরে রাখতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।