
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ন্যাড়া বাহিনীর প্রধান ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে ‘কিলার বাবু’ ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় লিটন নামে তার এক সহযোগী ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে ফতুল্লার পঞ্চবটি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ওই এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাবু ও তার সহযোগীর ওপর হামলা চালায়।
নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু (৪০) ফতুল্লার লালপুর পৌষাপুকুরপাড় এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। এলাকায় তিনি ‘কিলার বাবু’ নামে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তার নামে পাঁচটি হত্যা মামলা, ছিনতাই মামলাসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি Fatullah Model Police Station–এর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজ হোসেন জানান, ভোররাতে পঞ্চবটি মোড়ের কাছে কে বা কারা বাবু ও লিটনকে কুপিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে Dhaka Medical College Hospital–এ নেওয়ার পর চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। লিটন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং এর কারণ কী—তা জানার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সময় ও আশপাশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাতে ব্যস্ত সড়কের পাশে এ ধরনের হামলা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাবুর মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে আহত লিটনের অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তার জবানবন্দি পাওয়া গেলে হামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
ফতুল্লা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কিলার বাবুর নাম আলোচনায় ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পূর্বের কোনো বিরোধ জড়িত কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।