
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরান আবারও ইসরায়েল অভিমুখে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। বুধবার এবং আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দফায় দফায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামলা মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Iron Dome সক্রিয় রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী, Israel Defense Forces (আইডিএফ), জানায় যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সতর্কবার্তায় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, সতর্ক সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী সুরক্ষিত স্থানে প্রবেশ করতে হবে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হবে।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এতে করে জীবন রক্ষা পাবে।’ অর্থাৎ হামলার সময় সঠিকভাবে আশ্রয় নেওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পরই কেবল সুরক্ষিত স্থান থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় নিয়োজিত Home Front Command–এর নির্দেশনাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার শুরু হওয়া হামলা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দফায় দফায় অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবার সতর্ক সংকেত বাজানো হলে বিভিন্ন এলাকায় নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও বারবার হামলার সতর্কতা নাগরিক জীবনে প্রভাব ফেলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হামলার মাত্রা, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সামরিক ও বেসামরিক উভয় পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। আপাতত ইসরায়েলি বাহিনী নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।