
সাবেক উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, পরিবার নিয়ে সেখানে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগগুলোকে ‘গাঁজাখুরি’ ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে একটি ইউটিউব চ্যানেলে তাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খবর প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে একটি টকশোতে বিষয়টি আলোচনায় এলে তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানান—যদি তার নামে আমেরিকায় কোনো সম্পত্তি থাকে, তার প্রমাণ তুলে ধরার জন্য। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ কোনো দলিল বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তো দূরের কথা, বাংলাদেশের বাইরেও তার কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।
অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বিদায়ের পর তার এবং কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ ছড়াতে শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব অভিযোগ প্রথমে কিছু অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পরে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে বলে তার দাবি।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে তিনি তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেন। প্রথমত, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বা ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কখনো দুর্নীতি করেননি এবং কোনো অপ্রদর্শিত সম্পদ বা নতুন ব্যাংক হিসাব খোলেননি বলে জানান। দ্বিতীয়ত, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নাকচ করে বলেন, নিয়োগ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কোনো আত্মীয়কে সুবিধা দেননি। তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত এলাকা বা গ্রামের জন্য বিশেষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেননি; কেবল নিয়ম মেনে কিছু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করেছেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতেও নানা অপবাদের মুখোমুখি হয়েছেন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণে জড়াতে চান না। তার বিশ্বাস, সত্য শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।