
ইরান বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছে যে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও নৌবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনার জবাব প্রদান করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে জানান, “যদি প্রয়োজন হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলা ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদে রাখবে।” এর প্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নৌ বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সমুদ্রপথে কার্যক্রমে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
ইরানের নৌ শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, “বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচলের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ এই নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না।”
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমগ্র বিশ্বে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ এই প্রণালির মাধ্যমে হয়। সাম্প্রতিক সময়ের মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য ইতিমধ্যেই ১০০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
ইরানের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান তৈরি করেছে। একই সঙ্গে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি রফতানিকারক দেশগুলোর ওপর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো, পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং প্রয়োজনে বিকল্প রফতানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোঁজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক সমুদ্র নীতি ও শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর হতে পারে কিনা, তা প্রশ্নবিদ্ধ।
এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জগতে নতুন ধরণের উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ও মূল্য ওঠানামা বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
অতএব, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা ও সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ইরানের এই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, পুরো বিশ্বে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।