
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ বোতল ভারতীয় মদসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে পৌর শহরের বিরিশিরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানার একটি দল পৌর শহরের বিরিশিরি এলাকায় অবস্থান নেয়। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় অটোরিকশায় থাকা তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৪০ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মেনকি ফান্দা গ্রামের মো. তাজ্জত আলী (৬৫), রাইদুল ইসলাম (২৮) এবং মো. তনু মিয়া ওরফে ইব্রাহিম (২৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জব্দকৃত মদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্দেহজনক অটোরিকশাটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে মদের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি মদ দেশে প্রবেশ করে এবং স্থানীয়ভাবে তা বিক্রি ও সরবরাহ করা হয়। এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে জোরদার তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মাদক নির্মূল করতে হলে শুধু অভিযান নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধিও প্রয়োজন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে এবং যারা অবৈধভাবে মাদক সংগ্রহ, পরিবহন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গাপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলে মাদক চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।