
দিনাজপুরের হাকিপুর উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন এবং লাইসেন্সবিহীনভাবে কারখানা পরিচালনার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মাধবপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরী ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন হাকিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, চৌধুরী ডাঙ্গাপাড়ায় অবস্থিত ‘আয়েশা-সালমা’ ও ‘ভাই-বোন প্রডাক্ট’ নামের দুটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে লাইসেন্সবিহীনভাবে সেমাই উৎপাদন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযানে দেখা যায়, কারখানাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল না। খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে ন্যূনতম মানদণ্ড রয়েছে, তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এ কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা জানান, জনস্বার্থে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইন অনুযায়ী দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। খাদ্য প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় কারখানাগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের আশঙ্কা থাকে। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি থাকলে খাদ্যপণ্যের মান বজায় থাকবে এবং ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য পাবেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে জড়িত সকলকে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক বলেও পুনরায় সতর্ক করা হয়েছে।