
সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) ও তার মেয়ে নাফিসা কামালের ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ আবু নোমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার আদালত এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানিয়েছেন। এদিন দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাত আবু নোমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, আ হ ম মোস্তফা কামাল, তার স্ত্রী কাশমিরী কামাল এবং তাদের দুই মেয়ে কাশফি কামাল ও নাফিসা কামাল একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো, দুবাইয়ে সম্পত্তি গঠন, শেয়ার কারসাজি এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ উপার্জন করে তা বিদেশে পাচার করেছেন—এমন অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মোস্তফা কামাল ও নাফিসা কামালের ব্যবসায়ী অংশীদার হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আবু নোমান কানাডা ও দুবাইয়ের স্থায়ী নাগরিক। তার মালিকানাধীন বিভিন্ন মেডিক্যাল চেকআপ সেন্টার স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং তার সম্পদ রাষ্ট্রীয় করার বিষয়ে অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রের স্বার্থে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে এই অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আবু নোমান নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন এবং বছরের একটি বড় অংশ বিদেশে অবস্থান করেন। তার একাধিক দেশের নাগরিকত্ব থাকার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনে।
দুদকের দাবি, গোপন সূত্রে জানা গেছে যে অনুসন্ধান চলাকালে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তিনি দেশত্যাগ করলে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিবেচনায় তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ আদেশ কার্যকর থাকাকালে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
এদিকে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই, আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ এবং সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, অভিযোগে যে সব বিষয় উত্থাপিত হয়েছে—যেমন বিদেশে সম্পত্তি গঠন, শ্রমিক প্রেরণে অনিয়ম ও শেয়ার কারসাজি—সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এখনো আদালতে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি।
দুদক বলছে, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা একটি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া, যাতে অনুসন্ধান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
বর্তমানে মামলার অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত পরবর্তী আইনি অগ্রগতি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।