
শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জাহাজটির নাম ‘আইআরআইএস ডেনা’। ইরানি নাবিকদের উদ্ধারের জন্য শ্রীলঙ্কার নৌ ও বিমান বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। জাহাজে মোট ১৮০ জন মানুষ ছিলেন।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ সংসদে জানিয়েছেন, ভোরের দিকে জাহাজটি থেকে একটি বিপদ সংকেত পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কা তাদের নৌ ও বিমান বাহিনীকে পাঠিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। হেরাথের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজের আহত ৩০ জনকে গ্যালে বন্দরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
জাহাজটি কেন ডুবে গেছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ এবং ইরানি নৌবাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে। দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া বা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণ থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এক বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার অংশ হিসেবে জাহাজটিতে কোনো আক্রমণ হয়েছে কি না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
জাহাজে থাকা নাবিকদের মধ্যে আহতদের চিকিৎসা ও বাকি ব্যক্তিদের নিরাপদে সরানোর কাজ দ্রুত চালানো হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় নৌকর্মীরা উদ্ধার অভিযান তদারকিতে রয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উদ্ধারকাজ চলাকালীন জাহাজের অবশিষ্টাংশ থেকে অনেক যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম পান।
ইরানি নৌবাহিনী ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে। ইরান জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের পর আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের নৌ দুর্ঘটনা ইরানের সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড এবং নৌবাহিনীর সক্ষমতার উপর প্রশ্ন তুলতে পারে। শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় এলাকায় আন্তর্জাতিক জলসীমার নিকটে এমন দুর্ঘটনা দ্রুত উদ্ধার এবং প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
ইরান-শ্রীলঙ্কার সরকারি সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। জাহাজে থাকা অধিকাংশ নাবিক নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে আহতদের চিকিৎসা চলমান। শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে, প্রয়োজনে আরও উদ্ধারকর্মী ও উদ্ধার যন্ত্রপাতি পাঠানো হবে।
জাহাজটি ডুবে যাওয়ায় ইরানি নৌবাহিনীর কিছু সামুদ্রিক সরঞ্জাম এবং লজিস্টিক সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, কেবল আহত ৩০ জন।
স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, জাহাজটি শ্রীলঙ্কার উপকূলে নোঙর করার সময় হঠাৎ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। উদ্ধারকারীদের মতে, জাহাজের সঙ্কট সংকেত পাওয়া মাত্রই তারা দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামেন।
এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে। তারা মনে করছেন, ইরানের নৌবাহিনী ও অন্যান্য রাষ্ট্রের জন্য এটি সতর্কবার্তা হতে পারে, যাতে সমুদ্রযাত্রায় নিরাপত্তা এবং জরুরি ব্যবস্থাপনার ওপর আরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কা ও ইরানের নৌবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও বাকি নাবিকদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে। আরেকদিকে, দুর্ঘটনার কারণ ও দায় সংক্রান্ত তদন্ত দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।