
মৌলভীবাজারের সদর উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩ হাজার ৩০০ কেজি ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিউল ইসলাম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার খেতুপাড়া ইউনিয়নের জসমন্তর ধুলিয়া গ্রামের মৃত ছবেদ আলী প্রামানিকের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর পয়েন্ট এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নি.) শিপু কুমার দাশের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।
চেকপোস্ট চলাকালীন একটি সন্দেহভাজন ট্রাককে থামানোর সংকেত দিলে চালক পালানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশ ব্যারিকেড স্থাপন করে ট্রাকটি আটক করে। এরপর তল্লাশি চালিয়ে মোট ১১০ বস্তা ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। প্রতি বস্তার ওজন ৩০ কেজি ধরা হলে মোট জব্দকৃত জিরার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩০০ কেজি।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি জব্দকৃত জিরার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জিরাগুলো সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে দেশে আনা হয়েছিল। এগুলো ঢাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল।
ওসি আরও বলেন, এই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক থাকা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের এই অভিযান সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধ পণ্য আনার প্রবণতা কমাতে এবং দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ধরনের অবৈধ পণ্য পরিবহন সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হলে দেশের বাজারে নকল ও ভেজাল পণ্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
অভিযানের সময় পুলিশের কার্যক্রম দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং অবৈধ বাণিজ্য আটকানো সম্ভব হয়েছে। শেরপুর পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন এবং ঘনিষ্ঠ নজরদারির কারণে ট্রাকচালক পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের তৎপরতা তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
মৌলভীবাজারের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পণ্যের চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র শনাক্ত ও দমন করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জিরা সহ অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য রোধে ভবিষ্যতেও পুলিশ এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের এই পদক্ষেপে ব্যবসায়ীরা এবং সাধারণ নাগরিকরা প্রশংসা জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের অভিযান অবৈধ পণ্যের সঠিক নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই অভিযান দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ বাণিজ্য রোধ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।