
পরিবেশ ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার দেশের সর্বত্র একযোগে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বুধবার জানান, আগামী মে মাস থেকে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু ভারসাম্য এবং দেশের ‘সবুজায়ন’ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে গাছ রোপণের পাশাপাশি ‘কার্বন ট্রেডিং’ বা কার্বন বাণিজ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গাছের চারা রোপণের এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বায়ু ও মাটি দূষণ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী জানান, ২৫ কোটি গাছের মধ্যে বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতির গাছের চারা থাকবে, যা জলবায়ুর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, “গাছ রোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং কার্বন নির্গমন হ্রাস ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই দেশের মানুষ এ কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করুন। বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় গাছ রোপণ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।”
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ব্যাপক বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার জন্য একইভাবে কার্যকর হবে এমন প্রকল্প। বিশেষ করে বন্যা, খরা এবং বায়ু দূষণ মোকাবিলায় গাছের উপস্থিতি সহায়ক হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি প্রাইভেট খাতকেও এ উদ্যোগে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কার্বন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলো গাছ রোপণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব নীতি বাস্তবায়নে সাহায্য করবে।
এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দেশের ‘সবুজ বাংলাদেশ’ অর্জনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, জনগণের অংশগ্রহণ এবং টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “গাছ রোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। প্রতিটি চারা গাছ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত সম্পদ হিসেবে কাজ করবে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি মানুষ এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করুন এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবেশ নীতি, জলবায়ু স্থিতিশীলতা এবং সবুজায়ন কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে। আগামী মে মাস থেকে শুরু হওয়া ২৫ কোটি গাছ রোপণের এই প্রকল্প দেশের পরিবেশ রক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং টেকসই উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।