
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার ঘোষণা করেছেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সারা দেশে শিগগিরই বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এই অভিযান শুরু হবে ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহর থেকে, যেখানে চাঁদাবাজি ও অবৈধ দাবির ঘটনা বেশি ঘটে। মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশকে দুইটি বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। প্রথমে আমরা চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করব এবং এরপর তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত, দাগী আসামি এবং যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তালিকা তৈরি হয়ে গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজধানী ও সারা দেশের জনগণের নিরাপত্তা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি সমাজে অপরাধ ও অশান্তি বৃদ্ধি করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সরকার ও পুলিশ এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অভিযান শুরু হলে জনগণকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ডিএমপি সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অভিযান পরিচালনার সময় আইন মেনে চলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিয়ম ভঙ্গ করতে না পারে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলায় চাঁদাবাজদের কার্যকলাপ বন্ধ হোক। তালিকা প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দমন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি বৃদ্ধি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অভিযান শুধু দণ্ড দিতে নয়, অপরাধীদের নিরুৎসাহিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি দেশের শান্তি ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।’
সর্বশেষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, অভিযান চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকল সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে। ঢাকার পর, অন্যান্য বড় শহর ও জেলা পর্যায়ে এই অভিযান সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা এবং সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত করা।
এভাবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশব্যাপী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন।a