
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর তাঁর দাফনের প্রস্তুতি চলছে। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, খামেনির দাফন হবে দেশের পবিত্র শহর মাশহাদে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত শনিবার নিহত হন। তিনি ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তার বাবাকেও সেখানে ইমাম রেজার মাজার এলাকায় দাফন করা হয়েছিল। তাই পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী, খামেনিও মাশহাদে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুতে ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তেহরানে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী একটি বিশাল বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বার্তায় তারা জানায়, খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিশাল জনসমাবেশ হবে। তবে দাফনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির দাফন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জটিল প্রতিক্রিয়ার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের পর ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থির। এই অবস্থায় দাফন আয়োজন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মাশহাদে দাফনের সিদ্ধান্তে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করা হয়েছে। মাশহাদ শহরটি শিয়াদের জন্য পবিত্র স্থানে গণ্য হয়। ইমাম রেজার মাজার এলাকায় খামেনির বাবার কবর থাকায় পরিবারের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী খামেনির দাফন সেখানে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফারস সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাফনের আগে তেহরানে আয়োজিত বিদায়ী অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। তবে করোনার পরিপ্রেক্ষিত এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে কতজন সাধারণ মানুষ অংশ নিতে পারবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ইরান ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা খামেনির মৃত্যুকে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এবং সামরিক অবস্থান নতুনভাবে নজরে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে খামেনির দাফন কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, খামেনির দাফন হবে পবিত্র শহর মাশহাদে, যেখানে তার বাবাকেও দাফন করা হয়েছিল। তেহরানে ইতিমধ্যেই বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। দাফন নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সকল বিষয়েই খামেনির মৃত্যু ও দাফন গুরুত্ব বহন করছে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে।