
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের চলমান নিরাপত্তা অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের আকাশপথে অব্যাহত রয়েছে। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ৪ মার্চ রাত ১২টার পর থেকে আজ পর্যন্ত মোট ২৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, এমিরেটসের ৫টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪টি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
এর আগের দিনগুলোতেও ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের আকাশপথে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত বা বন্ধ আকাশসীমার কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপ, আফ্রিকা বা এশিয়ার অন্যান্য গন্তব্যে যাত্রা প্রভাবিত হচ্ছে।
যাত্রীদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। যারা অগ্রীম বুকিং করেছেন, তাদের বিমান সংস্থাগুলো বিকল্প সময় বা রুটে ফ্লাইটের সুযোগ প্রদান করছে। তাছাড়া যাত্রীদের যাত্রার পূর্বে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হচ্ছে। বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, যাত্রীদের সেবা ক্ষুণ্ণ না হওয়া এবং যাত্রা পরিকল্পনায় সহায়তার জন্য তারা বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিমান চলাচলে প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। যাত্রীদের সচেতন থাকা, ভ্রমণ সূচি পুনর্বিন্যাস করা এবং বিমান সংস্থার নিয়মিত আপডেট খোঁজ নেওয়া এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
সংক্ষেপে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা অস্থিরতার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আজও ২৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ ও উত্তেজনার কারণে ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। যাত্রীদের জন্য পূর্বপরিকল্পনা, সতর্কতা ও বিমান সংস্থার নিয়মিত তথ্য আপডেট নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।