
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান তাদের লক্ষ্য করে শতাধিক ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮১২টি ড্রোনের মধ্যে ৭৫৫টি আকাশেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইলের মধ্যে ১৭২টি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে শাফাক নিউজ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক সামরিক ব্রিফিংয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পাইলট আব্দুল নাসের আল-হামিদি জানান, ইরান থেকে ছোড়া ৮টি ক্রুজ মিসাইলও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সমুদ্রে গিয়ে পড়ে, ফলে বড় ধরনের স্থলভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা বিদ্যমান। চলমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
হামলার প্রভাব সম্পর্কে জানানো হয়েছে, ইরানের নিক্ষেপ করা ড্রোন ও মিসাইলের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৬৮ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলে সরকারি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত থাকার আহ্বানও বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হচ্ছে।
এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আধুনিক ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।