প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 3, 2026 ইং
সাহরি–তারাবির মাঝেও থাকুন সতেজ ও কর্মক্ষম

রমজান মাসে সাহরি, তারাবি ও ইবাদতের কারণে স্বাভাবিক ঘুমের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় রোজা রেখে অফিস বা দৈনন্দিন কাজ সামলানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা করলে রমজানেও পর্যাপ্ত ঘুম ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব।
ঘুমের সময় ভাগ করে নিন
একটানা ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানো সম্ভব না হলে ঘুমকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
প্রথম ভাগ:
ইফতার ও তারাবির পর (রাত ১০টা বা ১১টা থেকে সাহরি পর্যন্ত) অন্তত ৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
দ্বিতীয় ভাগ:
ফজর নামাজের পর অফিসের প্রস্তুতির আগে আরও ১–২ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিন।
এভাবে ভাগ করে ঘুমালে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় এবং ক্লান্তি কমে।
দুপুরে ‘পাওয়ার ন্যাপ’ বা কায়লুলাহ
কাজের ফাঁকে দুপুরে ২০–৩০ মিনিটের ছোট ঘুম বিকেলের ঝিমুনি দূর করতে সাহায্য করে। ইসলামী পরিভাষায় একে ‘কায়লুলাহ’ বলা হয়। এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং মন সতেজ রাখে।
গভীর ঘুমের জন্য যা করবেন
খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখুন:
ইফতারে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেহরিতে ওটস, কলা, ডিম বা দুধজাত খাবার রাখুন, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করে।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ করুন:
ইফতারের পর অতিরিক্ত চা বা কফি পান এড়িয়ে চলুন। ঘুমের অন্তত ৬–৭ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন না নেওয়াই ভালো।
স্ক্রিন টাইম কমান:
ঘুমের অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন। অন্ধকার ও শান্ত পরিবেশে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
কর্মক্ষেত্রে সতেজ থাকার টিপস
-
গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সকালে সেরে ফেলুন
-
ছোট বিরতি নিন ও হালকা হাঁটাহাঁটি করুন
-
ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন
-
মানসিক চাপ কম রাখার চেষ্টা করুন
সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে রমজানে ইবাদত, কাজ ও বিশ্রামের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা