
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া খুব বেশি দীর্ঘ হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক সদস্য।
বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, পরিষদের সদস্য আলী মোআলেমি বলেছেন—নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ প্রাধান্য পাবে না। বরং সদস্যরা ধর্মীয় নীতিমালা ও নিজেদের বিবেচনার ভিত্তিতেই ভোট দেবেন।
মোআলেমি খামেনিকে ‘বিপ্লবের শহীদ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশেষজ্ঞ পরিষদ অতীতের মতোই এমন একজন ব্যক্তিত্বকে বেছে নেবে, যিনি শহীদ নেতার আদর্শ অনুসরণ করবেন। তার ভাষায়, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ, ধর্মীয় নির্দেশনা ও রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোই প্রধান বিবেচ্য হবে।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে তার উত্তরসূরি নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ শাসনব্যবস্থার অধীনে থাকা দেশটিতে এ পর্যন্ত মাত্র একবার সর্বোচ্চ নেতা পরিবর্তন হয়েছে।
১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই থেকে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তবে মৃত্যুর আগে খামেনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেননি বলে জানা গেছে। ফলে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভোটের মাধ্যমেই নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে।
ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ও তদারকির সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিষদের সিদ্ধান্তই দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, দীর্ঘসূত্রতা না করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।