
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন পরিমাণ অস্ত্র মজুত রয়েছে, যা দিয়ে অনন্তকাল ধরে যুদ্ধ চালানো সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কার্যত সীমাহীন সরবরাহ রয়েছে এবং দেশটি বড় জয়ের জন্য প্রস্তুত। তার এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে।
নিজের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ট্রাম্প তার পূর্বসূরি Joe Biden-এর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন ইউক্রেনকে অনেক উচ্চমানের মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। চার বছরের মেয়াদের শেষের দিকে বাইডেন ইউক্রেনকে শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেন, যা প্রায় ১৯০ মাইল বা ৩০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে টিকে থাকার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। তবে তার এ মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সমালোচকরা বলছেন, এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ অন্তত পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে সংঘাতের একপাশে রয়েছে United States ও Israel, অন্যপাশে Iran। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি বাজার, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সামরিক ভারসাম্য—সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, ইরানে সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। ফলে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের ‘সীমাহীন অস্ত্র’ সংক্রান্ত মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। সমর্থকদের মতে, এটি দেশের শক্তি ও প্রস্তুতির বার্তা। তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নির্ভর করছে পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।