মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ক্রমেই বাড়ছে। তেল উৎপাদনকারী এই অঞ্চল থেকে সরবরাহে হুমকি তৈরি হওয়ায় বাজারে চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে Brent crude oil-এর দাম প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দামও প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই তেল ও গ্যাসের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান QatarEnergy সামরিক হামলার কারণে তাদের কিছু স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এদিকে London Stock Exchange Group জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য একটি সুপারট্যাংকারের ভাড়া সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে যখন মার্কিন হুমকি প্রকাশ্যে আসে, তখনকার তুলনায় এই ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে পড়ে।
দুই মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজগুলো এখন রেকর্ড ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
