
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় সরকারি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে এই সংঘর্ষ শুরু হয় এবং দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন ঘোয়ালপাড়ার মনছের আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৭০) এবং একই গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৬০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালপাড়ার ৫ বিঘা সরকারি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থিত আছমত আলী স্থানীয় মসজিদের নামে পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপি নেতা আবুবক্কার সিদ্দিক ওই পুকুরটি তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন।
সোমবার সকালে আবুবক্কারের পক্ষের লোকজন পুকুরে জাল ফেলতে গেলে আছমত আলী বাধা দেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং উভয়পক্ষ ধারালো অস্ত্র, হাঁসুয়া, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষের সময় আছমত আলীর পক্ষের চারজন ও আবুবক্কারের পক্ষের সাতজন গুরুতর আহত হন। আহতদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে বগুড়ায় ইসমাইল হোসেন এবং সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, এই পুকুরকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালে ফজলার রহমান নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছিল।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি খাস পুকুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক সমর্থন ও প্রভাব বিস্তারও এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনঝুঁকি বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি সম্পত্তি ও খাস পুকুরের মতো সংরক্ষিত সম্পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও দখলদারিত্ব রোধ করতে প্রশাসনের তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ঘটনা রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ না ঘটে।
সংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জের ধামাইনগরে সরকারি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই জন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত থাকলেও এলাকার নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের তৎপরতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।