
রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১টার দিকে সায়েদাবাদ রেললাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় মাদক কারবারিদের গুলিতে গুরুতর আহত হন অধিদপ্তরের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সায়েদাবাদ রেললাইন ও আশপাশের এলাকায় মাদক কারবার বাড়ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক টিম নিয়ে সমন্বিত অভিযান শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানে সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ তাদের একজন পিস্তল বের করে পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
গুলির একটি সিদ্দিকুর রহমানের বাঁ পায়ে লাগে। সঙ্গে থাকা অন্যান্য কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং হামলাকারীদের ধরতে ধাওয়া করেন। ঘটনার পরপরই অভিযান টিম ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র ইন্সপেক্টর ফজলুল হক খান গণমাধ্যমকে জানান, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত সমন্বিত অভিযান। অভিযানের সময় এ ধরনের সশস্ত্র হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছি। সায়েদাবাদ এলাকায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করার সময় তারা গুলি চালায়।”
আহত সিদ্দিকুর রহমানকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি-এর ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহত কর্মকর্তার বাঁ পায়ে গুলি লেগেছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত কিনা সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিদের মধ্যে অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সায়েদাবাদ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রেললাইন ও আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হওয়ায় মাদক ব্যবসার একটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদক কারবার নির্মূলে শুধু অভিযান নয়, গোয়েন্দা নজরদারি, সামাজিক সচেতনতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পিস্তল ও ব্যবহৃত গুলির খোসা। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে রাজধানীতে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সায়েদাবাদে এই গুলির ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, মাদক কারবার দমনে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কতটা ঝুঁকির মুখে থাকেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।