
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরা ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে শিল্প সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর অধীনস্থ রাস তানুরা কমপ্লেক্স উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার। এর দৈনিক শোধন ক্ষমতা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। শুধু শোধনাগার হিসেবেই নয়, এটি সৌদি অপরিশোধিত তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবেও কাজ করে।
সূত্র জানায়, ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান অঞ্চলজুড়ে ড্রোন হামলা শুরু করলে সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও হামলার সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে জ্বালানি খাতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় দেশটির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে কোনো বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ড্রোন হামলার প্রভাব শুধু সৌদি আরবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যেমন আবুধাবি, দুবাই, দোহা, মানামা এবং ওমানের দুকম এলাকায়ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকা আন্তর্জাতিক শিপিং ও জ্বালানি পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা জ্বালানি অবকাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। অতীতেও সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবকাইক ও খুরাইস প্ল্যান্টে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ওই ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায় এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা শুরু করেছে এবং বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস তানুরা শোধনাগার বন্ধের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা হবে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে। বিশেষ করে ইরান, সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, সৌদির রাস তানুরা শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো এখনও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।