
পাবনা-৩ আসনের (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আছগার চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে শপথ নিয়েছেন। রবিবার ভাঙ্গুড়া সরকারী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ শপথ গ্রহণ করেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরাও হাত উঁচু করে একই অঙ্গীকারে শামিল হন।
অনুষ্ঠানটি ভাঙ্গুড়া বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও জামায়াত নেতা শিল্পপতি হাফিজ উদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াত ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বণিক সমিতির নেতারা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভাঙ্গুড়া পৌর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি সুলতান আহমেদ।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা বাজার ও স্থানীয় এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরেন। ভাঙ্গুড়া বাজার বণিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগেই ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল—নির্বাচিত হলে এলাকায় চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের কাছে বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব স্তরে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভাঙ্গুড়া বাজারের ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা হানিফ বাবলুও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে ভাঙ্গুড়ায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তিনি জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আছগার বলেন, চাঁদাবাজি রুখতে হলে প্রথমে জনগণকে সচেতন হতে হবে। তিনি উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা নিয়ত করুন—কাউকে চাঁদা দেবেন না এবং নিজেরাও দুর্নীতিমুক্ত থাকবেন। তাহলেই সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় না দিয়ে আইনি পদক্ষেপে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা হাত উঁচু করে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শপথ নেন। এ দৃশ্য উপস্থিত জনতার মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই শপথ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভাঙ্গুড়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকায় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগে ছিলেন। এমপির প্রকাশ্য অঙ্গীকার তাদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর জনসম্মুখে এ ধরনের শপথ নেওয়া একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।
সবমিলিয়ে, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আছগারের এই শপথ স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসায়ী মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই অঙ্গীকার বাস্তবে কতটা কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয় এবং চাঁদামুক্ত সমাজ গঠনে কতটা সফলতা আসে।