
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দ্রুত ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার জন্য সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হলো নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা। সরকার আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই নতুন পরিবহন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।
সোমবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর জনগণের জন্য জনবান্ধব ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করতে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষত নারী যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয়।
বৈঠকে প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল, নারীরা যখন নিরাপদ গণপরিবহন পান না, তখন তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই সমস্যার সমাধান এবং নারীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার পরিকল্পনা করেছে ইলেকট্রিক বাস চালু করার। নতুন এই বাসগুলোতে নারী চালক নিয়োগের বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শামসুল হক জানান, প্রাথমিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো রাজধানীর গণপরিবহনকে সুশৃঙ্খল করা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও আবেদনময় বাস সার্ভিস চালু করা। নারীদের জন্য বিশেষায়িত বাস চালুর মাধ্যমে তারা নিরাপদভাবে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া নারীচালক নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাস চালু করা হবে। এতে দূষণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী পরিবহন ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে। বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে ৬ মাসের মধ্যে কার্যকর ফলাফল দেখা যায়।
শামসুল হক আরও জানান, বাসব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে জোনভিত্তিক পাইলট কার্যক্রমও শুরু করা হবে। এতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি সহজ হবে। পাইলট প্রকল্পের সফলতা ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সারাদেশে এই ধরণের নিরাপদ ও বিশেষ বাস চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে।
পরিকল্পনাকারীরা আশা করছেন, এই নতুন বাস সার্ভিসে নারীরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন এবং বাসচাপ কমিয়ে শহরের যানজটও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া, ইলেকট্রিক বাস ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব সমাধান তৈরি হবে এবং শহরের দূষণও কমবে।
সংক্ষেপে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নারীদের জন্য বিশেষ বাস চালু করার উদ্যোগ দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে না, বরং পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিকীকরণ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে।