
কুড়িগ্রামের রৌমারী-চিলমারী নৌরুটে নাব্য সংকটের অজুহাতে ফেরি চলাচল স্থগিত রয়েছে। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ আন্দোলনের পর চালু হওয়া এই ফেরি সার্ভিস শুরু থেকেই নাব্যতা জনিত সমস্যায় বারবার বন্ধ হয়ে এসেছে। সর্বশেষ, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ফেরি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
ফেরি বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১০ থেকে ১২টি জেলার যানবাহন ও সাধারণ মানুষের ঢাকা যাতায়াতে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। রৌমারী প্রান্ত দিয়ে ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং চিলমারী রমনা ঘাটের মাধ্যমে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের যানবাহন পারাপার হত। ফেরি সচল থাকলে দূরত্ব ১২০–১৫০ কিলোমিটার কমে যেত, যা সময়, জ্বালানি ও খরচ বাঁচাত।
স্থানীয় ট্রাকচালকরা জানিয়েছেন, ফেরি বন্ধ থাকায় দীর্ঘ পথ ঘুরে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। চলতি মৌসুমে আগাম পলি ভরাটের কারণে চ্যানেল সংকুচিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
বর্তমানে রৌমারী প্রান্তে ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’ নামের দুটি ফেরি চরাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। কার্যকর ড্রেজিং না হওয়ায় ফেরিগুলো বালুচরে আটকে রয়েছে, ফলে যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতি ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন এভাবে থাকলে সরকারের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ড্রেজিংয়ের জন্য একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৪ দিনে ফেরি চলেছে ৯৭ দিন। ২০২৪ সালে ফেরি চলেছে ২৪১ দিন, কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১৮ দিনে মাত্র ৬৮ দিন চলেছে।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী-রৌমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক নুরন্নবী সরকার বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে ড্রেজিং জোরদার করলে কমপক্ষে চারটি ফেরি নিয়োগের মাধ্যমে সার্ভিস সারাবছর সচল রাখা সম্ভব। জ্বালানি খরচ বিবেচনায় এই রুট নিয়মিত লাভজনক হতে পারে।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নাব্যতা রক্ষায় পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগের অভাব রয়েছে। প্রয়োজনীয় গভীরতায় খনন না হওয়া, চ্যানেল নির্ধারণে দুর্বলতা এবং সময়মতো ড্রেজিং না হওয়ায় প্রতিবছর একই সংকট দেখা দেয়। ফলে যাত্রী ও পরিবহন মালিকদের নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে, বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা সমির পাল জানান, “প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ড্রেজিং করে প্রায় ৪০ মিটার খনন করা হচ্ছে। আগামী এপ্রিল বা মে মাসের আগে ফেরি চালু করা সম্ভব না।” এই পরিস্থিতি রৌমারী-চিলমারী নৌরুটে সার্বিক পরিবহন ব্যাহত করছে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে।