
সাইপ্রাসে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর RAF Akrotiri ঘাঁটিতে সন্দেহভাজন একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (২ মার্চ) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানায়।
ঘাঁটিটি সাইপ্রাসের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিমাসল-এর নিকটে অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে একটি ড্রোন আঘাতের কারণে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সাইপ্রাসের এক সরকারি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন চ্যানেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটির সঙ্গে মানুষবিহীন একটি ড্রোন জড়িত থাকতে পারে। যদিও এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে বা কারা এটি পরিচালনা করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইরানে হামলার জন্য মার্কিন অনুরোধে সম্মত হওয়ার পরই এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ফলে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। তবে দ্বীপটির দুইটি সামরিক ঘাঁটির ওপর যুক্তরাজ্য সার্বভৌমত্ব ধরে রেখেছে, যার মধ্যে আক্রোতিরি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক অভিযানে এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইইউভুক্ত সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রমাণিত হয় যে হামলাটি আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ, তবে তা ইউরোপীয় ভূখণ্ডেও সংঘাতের বিস্তারের ইঙ্গিত বহন করবে।
তবে এখনো পর্যন্ত ড্রোন হামলার উৎস ও দায় স্বীকারের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।