
মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ নিয়ে গঠিত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জোটের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (১ মার্চ) জিসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে তারা দাবি করে, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
জিসিসির সদস্য দেশগুলো হলো— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার এবং কুয়েত।
এক বিবৃতিতে জিসিসি অভিযোগ করে, ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। একই সঙ্গে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই শনিবার ভোরে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। হামলার সময় রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এর পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অবস্থানরত ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এতে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে এবারের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত কোনো আন্তর্জাতিক বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েল-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জিসিসির কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। এখন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার না হলে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।