
দক্ষিণ লেবাননের ৫৩টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এ তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী শহর বিনতে জেবিল-ও রয়েছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা সোমবার (২ মার্চ) সকালে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এত বিস্তৃত অঞ্চলের জন্য একযোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েল যেভাবে গণ-স্থানচ্যুতির নির্দেশ জারি করেছিল, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ লেবাননের এই সিদ্ধান্তে।
এদিকে আল জাজিরার আরেক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের হারিস, নাবাতিহ আল-ফাওকা এবং মেফদুন শহরে ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে। উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলার পর এসব স্থানে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা বৈরুতে হিজবুল্লাহ-এর জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে সংগঠনটির আরেক কেন্দ্রীয় নেতাকেও টার্গেট করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালেও দুদিন কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখায়নি হিজবুল্লাহ। তবে সোমবার ভোরে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। রকেট হামলার জেরে ইসরায়েল পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
দক্ষিণ লেবানন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাঝেমধ্যে গোলাগুলি ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটলেও ৫৩টি গ্রাম ও শহরজুড়ে একযোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ পরিস্থিতির গভীরতা বাড়িয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এত বড় পরিসরে বেসামরিক মানুষকে স্থানচ্যুত করার সিদ্ধান্ত মানবিক সংকট ডেকে আনতে পারে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করছে, তাদের লক্ষ্য কেবল হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো। বেসামরিকদের নিরাপত্তার জন্য আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত নতুন মাত্রা পেলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, দক্ষিণ লেবাননের ৫৩টি গ্রাম ও শহরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং পরবর্তী সামরিক হামলার খবর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে। এখন নজর থাকবে, উত্তেজনা সংলাপের মাধ্যমে প্রশমিত হয় নাকি সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।