
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৭২ বছর বয়সী জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক এমপি এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
রাতেই বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত-এর শূন্যরেখায় ভারতীয় অ্যাম্বুলেন্স থেকে তার মরদেহ নামিয়ে বাংলাদেশি একটি ফ্রিজিং লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। পরে সেটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে দমদম এলাকায় অবস্থিত ফিনিক্স মেডিক্যাল সেন্টার-এ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভর্তি ছিলেন।
তার ছোট ভাই আতোয়ার রহমান জানান, শুক্রবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে তিন দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকরা স্বজনদের জানিয়েছেন, মাল্টিঅর্গান ফেইলিওরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
কলকাতায় চিকিৎসার সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন। মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পেট্রাপোল চেকপোস্ট হয়ে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্বজনরা জানান, মরদেহ নিজ জেলা টাঙ্গাইলে নেওয়া হবে এবং সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
জোয়াহেরুল ইসলাম দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে টাঙ্গাইল অঞ্চলে সক্রিয় ছিলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
সার্বিকভাবে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কলকাতায় তার মৃত্যু এবং পরবর্তীতে সীমান্তপথে মরদেহ দেশে আনা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।