
বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিল (২৪) ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ হামলার নেতৃত্ব দেন নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায়, ইফতারের পর নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। গুরুতর আহত শাকিল বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন।
শাকিল নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকায় রাব্বি নামের এক যুবক এক নারীকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। এ সময় শাকিল সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ করেন এবং রাব্বিকে বাধা দেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাব্বি পৌর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি তখন সাময়িকভাবে শান্ত হলেও উত্তেজনা অব্যাহত ছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইফতার শেষে সন্ধ্যায় শাকিল নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আড্ডা দিতে গেলে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা পলিন ও তার ১০-১৫ জন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা শাকিলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবার-পরিজন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আহাজারি করতে করতে শাকিলের মা বলেন, “আমার ছেলে শুধু একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল। সেই অপরাধে তারা ওকে এভাবে কুপিয়ে মারতে চাইল? আমি এর বিচার চাই।”
খবর পেয়ে রবিবার রাতেই হাসপাতালে আহত ছাত্রদল নেতাকে দেখতে যান বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, “দলে কোনো সন্ত্রাসীর ঠাঁই নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি দলের পদধারীও হন, তবুও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেব।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ— সে বিষয়টিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। অভিযোগ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সার্বিকভাবে, নারী উত্ত্যক্তের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ হামলা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।