
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষা এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা-এর একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করা হয়। যদিও হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বিবৃতিতে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রাখা এবং আমাদের নেতা ও যুবকদের হত্যার পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার আমাদের আছে। উপযুক্ত সময়ে ও স্থানে আমরা সেই জবাব দেব।’ তারা আরও উল্লেখ করে, গত ১৫ মাস ধরে ইসরায়েল যে সামরিক পদক্ষেপ ও হামলা চালিয়ে আসছে, তা বিনা চ্যালেঞ্জে চলতে পারে না।
হিজবুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা ছিল একটি সতর্কবার্তা— যাতে ইসরায়েল লেবাননের অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে পিছু হটে এবং আগ্রাসন বন্ধ করে। সংগঠনটি ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর এটিই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে ইরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর পর আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিশোধ ও পাল্টা প্রতিশোধের রাজনীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে ইরান, লেবানন এবং ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। হিজবুল্লাহ, যাকে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অতীতেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই হামলার দাবি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
সার্বিকভাবে, খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে যে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, হিজবুল্লাহর এই হামলার দাবি তা আরও গভীর করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।