
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবার প্রভাব ফেলতে পারে বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরেও। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরে ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা বিশ্বকাপের। আয়োজক দেশ হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরান ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করেছে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকায় গিয়ে খেলবে কি না, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ক্রীড়া প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে নেওয়া হবে।
বিশ্বকাপের ড্র অনুযায়ী গ্রুপ জি-তে ইরানের সঙ্গে রয়েছে বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ড। ফলে ইরান সরে দাঁড়ালে গ্রুপের ভারসাম্য ও সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ক্রীড়াবিশ্বের বিশ্লেষকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-র জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে শুরু থেকেই বিভিন্ন বিতর্ক ছিল। লাতিন আমেরিকার কিছু দেশ থেকেও আগে বয়কটের হুমকি শোনা যায়। মেক্সিকোতে সহিংসতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, যদিও আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হয়। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার তেহরানে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাল্টা আঘাতের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব কূটনীতি ছাড়িয়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা বলছেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা আসেনি, তবুও আলোচনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ইরান কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ক্রীড়াকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান দীর্ঘদিনের হলেও বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে অনেক সময় তা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে অংশগ্রহণ করা না করা—এ সিদ্ধান্ত কেবল ক্রীড়া নয়, কূটনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও বহন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।