
সদ্যসমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আবারও ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে মোট ৩০২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৩.০২ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে। এর ফলে টানা তৃতীয় মাসের মতো প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি থাকল, যা সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। দৈনিক গড় এই প্রবাহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গত বছরের একই মাসে দেশে এসেছিল ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় এবার রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে, যা বছর ব্যবধানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোর পরিসংখ্যানেও শক্তিশালী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে দেশে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার আগে ডিসেম্বর মাসে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে আসে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগস্টে রেমিট্যান্স ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই তিন মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসা সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এটি আমদানি ব্যয় মেটানো, রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং সামগ্রিক আর্থিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে টানা কয়েক মাস ধরে ৩ বিলিয়নের বেশি প্রবাহ অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারির ৩.০২ বিলিয়ন ডলার সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বছর ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোর শক্তিশালী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক আয়ের অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে।