
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার পরও বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির। রবিবার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যারা বাংলাদেশি আছেন, তাদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সহায়তা করা হচ্ছে। আমি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল এয়ারপোর্টে গিয়েছি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয়ের কাজটি ঠিকভাবে করছি যাতে কোনো নাগরিকের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত সমস্যা না হয়।”
তিনি আরও জানান, দেশের ভেতরে যারা জ্বালানি বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অস্থির, তাদের জন্য এই মুহূর্তে কোনো সমস্যা নেই। হুমায়ুন কবির বলেন, “এখন আমাদের যে জ্বালানি স্টক আছে, তাতে কোনো অসুবিধা হবে না। মাঝে মাঝে কিছু অস্বাভাবিক ফ্লাকচুয়েশন ঘটতে পারে, তবে আমরা এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য পূর্বেই প্রস্তুত।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশে থাকা বাংলাদেশের নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তিনি বলেন, “যারা বিভিন্ন কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিস্থিতিতেও আমরা সহায়তা করছি। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন দেশে আমাদের ডিপ্লোম্যাটিক কমিউনিটি সঙ্গে সমন্বয় চলছে। আমরা চাই পরিস্থিতি ডিস্কেলেট হোক এবং এই সমস্যা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান হোক।”
হুমায়ুন কবির দেশের প্রস্তুতির বিষয়েও বলেন, “আমাদের মোটামুটি প্রস্তুতি ভালো। আমরা ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি যাতে অস্থিরতার প্রভাব কমানো যায়। যাত্রী ও নাগরিকদের সহায়তা, ভিসা এক্সটেনশন এবং অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিস্থিতি বজায় রাখা।”
উপদেষ্টা এই পরিস্থিতিতে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন এবং সরকারের কার্যক্রমের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই আমাদের নাগরিকরা নিশ্চিন্ত থাকুন। প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা এবং দেশের জ্বালানি ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদেশে নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের আস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।