
চাঁদপুরে জাটকা সংরক্ষণের জন্য আরোপিত মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে দুই জেলেকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। রবিবার (১ মার্চ) বিকেলে চাঁদপুর সদর নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএমএস ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আটককৃতরা হলেন চাঁদপুর উপজেলার বাশগাড়ী গ্রামের মোস্তফা বেপারীর ছেলে মনসুর আহমেদ (৪০) এবং মৃত চান মিয়ার ছেলে নাকমত আলি (৬০)। অভিযানকালে তাদের দুটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
ওসি একেএমএস ইকবাল জানান, “আজ নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে দুপুরে নদীতে জাটকা রক্ষার জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সদর উপজেলার মিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীসহ ছয়টি উপকূলীয় এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা উপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হচ্ছে নদীতে জাটকা প্রজননকাল রক্ষা এবং মাছের প্রাকৃতিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য নৌ-পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মীরা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছেন। এ ধরনের অভিযান জাটকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে।
চাঁদপুরের জেলেরা প্রজননকাল চলাকালীন সময়ে জাটকা নিধন করলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি মাছের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এই দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি।
নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে জাটকা সংরক্ষণে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে।
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হয়। এটি কেবল জাটকা সংরক্ষণের জন্য নয়, বরং সমগ্র নদী ekosystem-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন আশা করছে, জেলেদের সহযোগিতায় এই সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
সার্বিকভাবে, জাটকা রক্ষার এই পদক্ষেপ চাঁদপুরের নদীজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করবে।