
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নির্মীয়মাণ একটি ছয়তলা ভবনে কাজ করার সময় মাচা ভেঙে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে রবিবার (১ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে বটতলী ইউনিয়নের গুন্ধীপপাড়া এলাকায়।
নিহতরা হলেন সিয়াম (১৯) ও আনিস (২৫)। সিয়ামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায় এবং আনিসের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। তারা দুজনই নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে ভবনের বাইরের অংশে প্লাস্টারের কাজ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ছয়জন শ্রমিক মিলে ভবনের বাইরের অংশে কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ভবনের রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন। হঠাৎ রেলিং ভেঙে দুইজন শ্রমিক নিচে থাকা মাচার ওপর পড়ে যান। পরে মাচাটিও ভেঙে নীচে পরে যায়।
ঘটনাস্থলেই সিয়ামের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় আনিসকে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মুনতাসির জাহিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক এবং বটতলী গ্রামের বাসিন্দা জুনাইদ ইসলাম বলেন, “শ্রমিকরা ভবনের বাইরের অংশে প্লাস্টারের কাজ করছিলেন। হঠাৎ রেলিং ভেঙে দুইজন নিচে পড়ে যান। এরপর মাচাটিও ভেঙে যায়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়।”
এ বিষয়ে ভবনের ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় জানালে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই দুর্ঘটনা চট্টগ্রামের নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কাজের শর্তের উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষত ছয়তলা বা উচ্চতর ভবনে কাজের সময় যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার না করা, মাচা ও রেলিংয়ের মান ও স্থায়িত্বের অভাব সাধারণত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে থাকে।
নির্মাণ শ্রমিকরা প্রায়শই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করেন। এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় এড়াতে ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
স্থানীয় জনগণ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই ধরনের দুর্ঘটনার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। তারা বলেন, “শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করতে ঠিকাদার এবং সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে। নিরাপত্তা অবহেলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
চট্টগ্রামে নির্মাণ দুর্ঘটনা নতুন নয়; তবে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও এ ধরনের ভবন নির্মাণ প্রকল্পে নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।