ওমানের আরব সাগর তীরবর্তী দুকম বন্দরে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন বিদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম Al Jazeera। রোববার (১ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে Oman News Agency জানায়, দুটি ড্রোন দুকম বন্দরকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি ড্রোন শ্রমিকদের জন্য ব্যবহৃত একটি অস্থায়ী আবাসনে আঘাত করে। অন্য ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ বন্দর এলাকার একটি জ্বালানি ট্যাংকের কাছে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
হামলার ঘটনায় একজন বিদেশি শ্রমিক আহত হন। তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জ্বালানি ট্যাংকের কাছে ধ্বংসাবশেষ পড়লেও তা থেকে বিস্ফোরণ বা ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
ঘটনার পর ওমানি কর্তৃপক্ষ হামলার নিন্দা জানায়। তারা এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। কর্মকর্তারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
দুকম বন্দর আরব সাগরের তীরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ও সরবরাহ কেন্দ্র। এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই বন্দরটি বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক কার্যক্রমের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফলে এখানে ড্রোন হামলার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে হামলার পেছনে কারা জড়িত—এ বিষয়ে কোনো পক্ষের দায় স্বীকার বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে হামলার প্রকৃতি বা ব্যবহৃত ড্রোনের ধরন সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওমানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো এবং শ্রমিকদের আবাসন এলাকা সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হামলাকে কেন্দ্র করে বন্দর কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, দুকম বন্দরে দুটি ড্রোন আঘাতের ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একজন শ্রমিক আহত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
