
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। খেজুর সদৃশ প্যাকেটে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৬ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ শ্রী শংকর চন্দ্র রায় (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) ভোরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ভরিয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জিললুল রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের শিংজানি গ্রামের মৃত রমেশ চন্দ্রের ছেলে বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ভোররাত পৌনে একটার দিকে অধিদপ্তরের একটি দল শিবগঞ্জের ভরিয়া এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় রংপুর থেকে ঢাকাগামী আদিবা ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়। বাসের যাত্রীদের আচরণ পর্যবেক্ষণের এক পর্যায়ে শংকর চন্দ্র রায়ের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়।
পরে তার দেহ তল্লাশি করা হলে তার কাছে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বাজার ব্যাগ পরীক্ষা করা হয়। ব্যাগের ভেতরে লেবেলবিহীন খালি পানির বোতলের নিচে বিশেষভাবে রাখা তিনটি জিপারযুক্ত পলি প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলো খুরমা খেজুরের প্যাকেটের মতো করে স্কচ টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল, যাতে বাইরে থেকে দেখলে সহজে বোঝা না যায়।
প্যাকেটগুলো খুলে গণনা করে দেখা যায়, তাতে মোট ৬ হাজার ৯৫০ পিস কমলা রঙের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা রয়েছে। এ ছাড়া তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
উপপরিচালক জিললুল রহমান বলেন, মাদকের বড় একটি চালান পাচার হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর শিবগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়ক ব্যবহার করে মাদক পাচারের নানা কৌশল সামনে আসছে। খেজুর সদৃশ প্যাকেটে ইয়াবা লুকিয়ে পরিবহনের ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার কথা জানানো হয়েছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, শিবগঞ্জে পরিচালিত এ অভিযানে বড় ধরনের ইয়াবার চালান উদ্ধার হয়েছে। মাদক পাচার রোধে ডিএনসির অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।